| বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালী-৩: প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি হাসান মামুন, চ্যালেঞ্জের মুখে নুর |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 2470241 বার পঠিত
পটুয়াখালী-৩: প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি হাসান মামুন, চ্যালেঞ্জের মুখে নুর |
ছবির ক্যাপশন: হাসান মামুন, চ্যালেঞ্জের মুখে নুর |

পটুয়াখালী-৩ আসনে লড়াই জমজমাট: নুরকে টেক্কা দিতে অনড় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দশমিনা-গলাচিপা (পটুয়াখালী): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, তার প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হলেও হাসান মামুন নিজের অবস্থানে অনড় থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মাঠে অনড় হাসান মামুন: চ্যালেঞ্জের মুখে নুর

তৃণমূলের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী-৩ আসনে হাসান মামুনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। মঙ্গলবার শেষ সময়েও তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। নুর ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পেলেও, হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হিসেবে কাজ করে আসছেন।

হাসান মামুন দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, "আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের চাপের কারণে আমার নির্বাচন থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইনশাআল্লাহ, ভোটগ্রহণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। আমার বিশ্বাস, জালিম ও জুলুমকারীদের প্রত্যাখ্যান করে নিরাপদ দশমিনা-গলাচিপা গড়তে মানুষ আমাকেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।"

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কমিটি বিলুপ্তি

এই আসনে জোটের স্বার্থে নুরকে সমর্থন দিতে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ থাকলেও স্থানীয় বিএনপি তা মেনে নিতে পারছে না। গত ১৭ জানুয়ারি নুরকে অসহযোগিতা করার অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি বিলুপ্তির পরও স্থানীয় মূলধারার সিংহভাগ নেতাকর্মী হাসান মামুনের পক্ষেই কাজ করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে জোটের প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া তারা মেনে নেবেন না।

অন্যদিকে, নুরুল হক নুর গত বৃহস্পতিবার দশমিনায় এক সভায় আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, "আমি কোনো প্রার্থীকেই চ্যালেঞ্জ মনে করি না। সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং তারা আমার সাথেই আছে।"

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই অঞ্চলটি সবসময়ই হেভিওয়েট প্রার্থীদের চারণভূমি ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে (১৯০০ পরবর্তী সময়) এই এলাকার মানুষেরা শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দশমিনা-গলাচিপার মানুষের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এই আসনের ছাত্র ও যুবসমাজ রাজপথে সক্রিয় ছিল। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন (২০২৬) এলাকার রাজনীতির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা নুরের 'পরিবর্তনের স্লোগান' এবং হাসান মামুনের 'তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা'—এই দুইয়ের মধ্যে কাকে বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটের লড়াই হবে দ্বিমুখী। একদিকে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদের নুরের তারুণ্যের ইমেজ, অন্যদিকে হাসান মামুনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিএনপির বিশাল একটি অংশের সমর্থন। বিএনপি জোট যদি ভোট ব্যাংককে একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারে, তবে এই বিভাজন ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি পটুয়াখালীর রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ ঘটায় কি না, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।


সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় সংবাদ দাতা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency